Profit First বইটা আমি অনেক আগেই পড়েছি। নামটা প্রথমে একটু অদ্ভুতই লাগছিল—প্রফিট আবার প্রথমে হয় নাকি!
Insure Talks
Saturday, April 12, 2025
Profit First
Wednesday, January 29, 2025
জীবন বীমা কি এবং জীবন বীমা করা কি ইসলামে যায়েজ আছে
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হযরত জীবন বীমা কি এবং জীবন বীমা করা কি ইসলামে যায়েজ আছে ?
উত্তর: না, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম একটি লেনদেন। ওআইসির শাখা সংস্থা “আর্ন্তজাতিক ফিকহ একাডেমি” এবং সৌদীআরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংস্থা “উচ্চ উলামা পরিষদ” সহ বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সকল প্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ ফকীহ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সকল ধরণের বানিজ্য বীমাই হারাম। চাই তা সম্পদের বীমা হোক বা জীবনের বীমা। উলামায়ে কিরাম এর একাধিক কারণ উল্লেখ করেছেন। আমরা তন্মধ্য হতে এখানে কয়েকটি উল্লেখ করছি-
(১) এতে সুস্পষ্ট সুদ পাওয়া যায়। যেহেতু এতে যে পরিমাণ অর্থ জমা দেয় হয় বিনিময়ে তার চেয়ে অনেক বেশি গ্রহণ করা হয়। আর শরীয়তের পরিভায়ায় সরাসরি আর্থিক লেনদেনে কমবেশি মুনাফা চুক্তিকেই তো সুদ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ারা পরিষ্কার ভায়ায় সুদ হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন,
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
অর্থাৎ: ‘আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় তথা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সূরা বাকারা : ২৭৫)
(২) এতে ধোকা ও ঝুঁকি বিদ্যমান। যেহেতু বীমাকারীর একথা জানা নেই যে, সে কী পরিমাণ অর্থ দিবে আর কী পরিমাণ গ্রহণ করবে? এমনও হতে পারে যে, বীমা করার কিছুদিনের মধ্যেই সে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হলো। তখন বীমা প্রতিষ্ঠান চুক্তির শর্তানুযায়ী বিশাল অর্থ দিতে বাধ্য হবে। আবার এমনও হতে পারে যে, সারাজীবন তার কোনো দুর্ঘটনাই ঘটলো না। তাহলে এক্ষেত্রেও বীমাকারীকে সকল কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। অথচ সে জীবিত অবস্থায় এর কিছুই পাবে না; বরং মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা পাবে। হাদীসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে,
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْحَصَاةِ وَعَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ.
অর্থাৎ: ‘রাসূল (সা.) পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে (আরবে প্রচলিত বিশেষ এক ধরণের বিক্রয় পদ্ধতি) ও প্রতারণামূলক লেনদেন থেকে নিষেধ করেছেন।’ (সহীহ মুসলিম : হাদীস নং ৩৮৮১)
(৩) এতে জুয়া বিদ্যমান। যেহেতু বীমাকারী কখন মারা যাবে আর সে কতো টাকা পাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর শরীয়তের পরিভাষায় অনিশ্চিত লেনদেনকেই জুয়া বলে। আল্লাহ তায়ালা জুয়াকে শয়তানের কর্ম বলে অভিহিত করেছেন এবং এ থেকে বিরত থাকার আদেশ করেছেন। তিনি বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থাৎ: ‘হে মুমিনগণ, মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ এসবই শয়তানের কার্য বৈ কিছু নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যেনো তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা মায়েদা : ৯০)
(৪) এতে যুলুম পাওয়া যায়। যেহেতু কোনো বীমাকারী প্রয়োজনবশতঃ হলেও কিস্তি দিতে অপারগ হওয়ায় এটা বাতিল করতে চাইলে প্রতিষ্ঠান তার সমুদয় অর্থ রেখে দেয়, যা সুস্পষ্ট যুলুম ও অমানবিক। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ
অর্থাৎ: ‘হে মুমিনগণ, তোমরা এক অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।’ (সূরা নিসা : ২৯)
(৫) এতে মানুষকে বিক্রয়লদ্ধ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেহেতেু এতে মানুষের মৃত্যু বা দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে চুক্তি করা হয়, সেহেতু এতে মানুষকে একপ্রকার পণ্য হিসেবে মূল্যায়িত করা হয়। অথচ মানুষ সম্মান ও মর্যাদাসম্পন্ন এক জাতি, যা কিছুতেই বিক্রয়যোগ্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
অর্থাৎ: নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (সূরা বনী ইসরাইল ,৭০)
এছাড়াও আরো অনেক কারণ আছে, যার কারণে উলামায়ে কিরাম সর্বসম্মতভাবে এটাকে নাজায়েয ও হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। মূল কথা হলো, মানুয়ের রিযিকের দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে। এ কথার উপর সকল মুমিনের বিশ্বাস রাখা একান্ত জরুরি। এর বিপরীত লাইফ ইন্সুরেন্সের মাধ্যমে মৃত্যু পরবর্তী পরিবার খুব ভালোভাবে চলতে পারবে এ দৃঢ় বিশ্বাস অন্তরে লালন করে এ রকম হারাম একটি ব্যবস্থাপনা করে যাওয়া শুধু গোনাহই না; বরং শিরকের অর্ন্তভুক্ত। তাই এ থেকে সবার বেচেঁ থাকা একান্ত জরুরি।
ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এতে কেউ জড়িয়ে পড়ার নিজের ভুল বুঝতে পারলে আল্লাহর কাছে খালেস দিলে তওবা করতঃ সঙ্গে সঙ্গে তাকে এ কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতে হবে। সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে জমাকৃত অর্থ তুলে ফেলবে। একান্ত তুলতে সক্ষম না হলে যখন বীমা প্রতিষ্ঠান তাকে সমুদয় টাকা প্রদান করবে তখন শুধু নিজের আসল টাকা রেখে বাকী লভ্যাংশ গরীব-মিসকীনদের মাঝে সওয়াবের নিয়ত ব্যতীরেকে দান করে দিবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেনঃ মুসলিম বাংলা ফাতওয়া বিভাগ
লাইফ ইনস্যুরেন্স বা জীবন বীমা করা কি জায়েয
লাইফ ইনস্যুরেন্স বা জীবন বীমা করা কি জায়েয............???
২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৫
এই বিষয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করার পর এই লেখাটি লিখলাম।সবাই পড়ুন আশা করি উপকৃত হবেন।
-
লাইফ ইনস্যুরেন্স বা জীবন বীমা মানেই হল জীবিতাবস্থায় জীবনের এবং মৃত্যু বরণ করার তার পরিবারের পরিপূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। এই যুক্তিটি নীতি বাক্যের মাধ্যমে অনেক পূর্ব থেকেই বিশ্বের দরবারে প্রচলিত আছে। এই পদ্ধতিতে সাধারণ ব্যক্তিদেরকে যে কোন ভাবে বুঝিয়ে তাকে লাইফ ইনস্যুরেন্স তালিকাভুক্ত করে তার কাছে থেকে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করাই হল নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের কাজ। প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মচারীদের কোন বেতন নির্ধারিত না থাকলেও চাপার জোরে কাউকে লাইফ ইনস্যুরেন্সে অংশ গ্রহণ করিয়ে সংগৃহীত সেই সদস্যদের জমা-কৃত টাকার একটা বৃহত্তম অংশই সেই নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারী-গনই পেয়ে থাকে। যাহোক অন্যান্য কোম্পানির দেখা-দেখি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি সর্বপ্রথম একটি ইসলামি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি হিসাবে প্রকাশ পায়। মুলতঃ কোম্পানিটির নামের সাথে ইসলামী সংযুক্ত থাকাতে খুব অল্প দিনেই তারা বাজার পেয়ে বসে। তাদের এই ব্যবস্থার প্রতি অনেক লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদের কোম্পানির সাথেও ইসলাম জুরে দেয়। তার কারণ: বাংলাদেশের ধূর্ত জনগণ জানেন যে,যে কোন নামের সাথে ইসলাম লাগিয়ে দিলেই মূর্খ লোকগুলো হুমড়ি খেয়ে সেই দিকেই ধাবিত হয়। এর মধ্যে সব থেকে যে বিষয়টি কাজ করে, তাহলো মুসলমান হয়েও ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে সাধারণ মানুষদের ধারনা একেবারেই কম থাকা। যার কারণে কোথাও ইসলাম লেখা দেখলেই মনে করে যে,এটাই সবথেকে ভেজালমুক্ত এবং এখানে কোন প্রকার ভুল থাকার সম্ভাবনাই নেই। এদেরকেই বলা হয় অবুঝ ধর্মভীরু,যারা নিজেরা কখনোই নিজেদেরকে শিরক-কুফর থেকে বাচাতে পারে না।
-
ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি সব থেকে যে বিষয়টি ফলাও করে বেড়ায়, তাহলো “আল্লহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন”। আমার কথা হল,লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি কোথায় কোন ব্যবসা করেন? তারা ব্যবসা করে কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? তাদের ব্যবসায় কি ক্ষতি হওয়ার নীতিমালা সম্বন্ধে কোন তথ্য লিপিবদ্ধ আছে? তাদের ব্যবসায় কোন কাঁচামাল আছে কি? তাদের ব্যবসার সামগ্রী ক্রয়ের যায়গা কোনটি আর বিক্রয়ের যায়গাই বা কোনটি? সকল উত্তর দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের নিজেরই। যাহোক আমার মনে হয় তাদের দ্রব্য সামগ্রী ক্রয়ের বাজার হল সাধারণ জনগণ,আর বিক্রয়ের বাজার হল ব্যাংক বা ধনি ব্যক্তি-গন। প্রশ্নানুসারে একজন মানুষ ১,০০,০০০/ টাকার চার কিস্তি বীমায় ১,৪০,০০০/ টাকা জমা করে চতুর্থ কিস্তিতে সে সর্বমোট ১,০০,০০০/ পায়। লাভের কথা না হয় পরেই থাকল,তাহলে নগদ জমা-কৃত টাকার বাকি ৪০,০০০/ কোথায় যায়? মনে রাখা দরকার যে,এই টাকাগুলোই হল চাকুরী-পাপ্ত কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের মুখের আহার,যা তারা মিলে মিশে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে থাকে।
-
একজন মানুষকে নতুনভাবে ইনস্যুরেন্স করানোর জন্য যে কত প্রকার কৌশলই ব্যবহার করা হয়,সেগুলোর আর কোন ইয়ত্তা নেই। হয়ত কখনো একজন মানুষ মৃত্যু বরন করলে তাকে সেই টাকা দেয়ার জন্য বিশাল সেমিনার বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়,যাতে করে তাদের সকল ভাল দিকগুলো জন সম্মুখে প্রকাশ পায় এবং বেশি বেশি করে মানুষ মৃত্যুর পরে তার উত্তরসূরিদের নিরাপত্তার জন্য লোভে পরে লাইফ ইনস্যুরেন্স করে। কিন্তু একজন মানুষ বিশ বছরের হিসাবে লাইফ ইনস্যুরেন্স করে পাঁচ বৎসর টাকা জমা করার পর যদি বন্ধ করে দেয়,তাহলে যে তার পূর্বের জমা-কৃত সকল টাকাই বাতিল হয়ে যায়,এই তথ্যগুলো কিন্তু একেবারেই বলে না। ইসলামী শব্দ যুক্ত কোন রাজনৈতিক দলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন অমুসলিম না থাকলেও ইসলামি লাইফ ইনস্যুরেন্সে কিন্তু অমুসলিমদের চাকুরী বা অংশগ্রহণ মোটেও নিষিদ্ধ নেই। কারণ হল এই ক্ষেত্রে লাভের ব্যবস্থা থাকায় ইসলাম হল গৌণ বিষয়।
সব থেকে বড় কথা হল মানুষ মৃত্যু বরন করার পর তার পরিবার কেমন ভাবে চলবে,তার সিদ্ধান্ত আল্লহ রব্বুল আলামিন নিজেই করে রেখেছেন। সুতরাং প্রত্যেক মানুষ মৃত্যু বরন করার পর একমাত্র একমাত্র লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি সকল প্রকার সাহায্য তথা যে কয়টি টাকা তার পাওয়ার কথা,তা দিলেই সেই পরিবারের সকল প্রকার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে,এই কথা বিশ্বাস করা একেবারেই শিরকি গুনাহ এবং লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্মীদের কর্তৃক একপ্রকার বিশেষ রকমের প্রতারণা মাত্র। এই ধরনের লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে যারা মৃত্যু বরন করেছেন,তাদের পরিবার ছাড়া সবাইই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া সকল নীতিমালা ইংরেজি ভাষায় লিখা থাকাতে আসল সর্ত সম্বন্ধে কোন গ্রাহকই তেমন কিছুই জানে না যে,সে কোন বিধানের উপর স্বাক্ষর করল। তাই এই ধরনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ফতোয়াবিদ-গন লাইফ ইনস্যুরেন্সকে হারাম হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। মোট কথা হল কোন মুসলমানেরই লাইফ ইনস্যুরেন্স করা উচিত নয়। তকদীরের উপর বিশ্বাস রাখা ফরজ। তাই তকদিরের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে রিজিকের সন্ধানে তদ্বির করতে হবে; আর এটাই মু’মিনের দায়িত্ব
Wednesday, January 22, 2025
বিয়ের আগে বীমা করুন, খরচ বাঁচান
বিয়ের আগে বীমা করুন, খরচ বাঁচান
জীবন বীমা এমন একটি চুক্তি যেখানে এককালীন অর্থ বা নির্দিষ্ট সময়ান্তে কিস্তি পরিশোধের প্রতিদানে বীমাগ্রহীতার মৃত্যুতে অথবা নির্ধারিত বছরসমূহ শেষে বীমাকারী বৃত্তি অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জীবন বীমা আসলে নিজের আর্থিক সুবিধার জন্য নয়। বরং বীমা গ্রহীতার অবর্তমানে তার ওপর নির্ভরশীলদের জন্য আর্থিক সমর্থন যোগানোই জীবন বীমার মূল লক্ষ্য।
জীবন বীমা পলিসির ধরণে যেমন রয়েছে ভিন্নতা তেমনি তার খরচেও রয়েছে ভিন্নতা। তবে বীমা পলিসি কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে কৌশল অবলম্বন করে এবং উপযুক্ত সময়ে পলিসি কেনার মাধ্যমে প্রিমিয়াম খরচ আরও কমিয়ে আনা যায়। ইন্সুরেন্সনিউজবিডি’র পাঠকদের জন্য বিশেষ করে যারা বীমা করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এমনই কিছু টিপস তুলে ধরা হলো-
মূলত জীবন বীমা পলিসি কেনার খরচ বা প্রিমিয়ামের পরিমাণ নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। যেমন- আপনার বয়স, শারীরিক অবস্থা, কাজের প্রকৃতি, নির্বাচিত পলিসির প্রকার, বীমাকৃত রাশি বা অংক, পলিসি মেয়াদ, প্রিমিয়াম প্রদানের মেয়াদ, রাইডার্স বা অতিরিক্ত সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর।
এক্ষেত্রে বীমা বিশ্লেষকদের মত হচ্ছে, একটি পলিসির খরচ কম হতে পারে যদি আপনি তরুণ বা প্রারম্ভিক বয়সে বীমা ক্রয় করেন, যখন ঝুঁকি কম থাকে। অর্থাৎ আপনি আপনার আয়ের উপর নির্ভরশীল হলে নিজেকে বীমা করা উচিত। ছোট বয়স, আপনার প্রিমিয়াম কম হবে। বিয়ের পরে নয়, বিয়ের আগেই বীমা করুন। এতে করে বীমার প্রিমিয়াম খরচ কম হবে।
মনে রাখা দরকার, একটি বীমা পলিসি ক্রয় করতে যেন খুব একটা দেরী না হয়। কারণ, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রিমিয়াম হারও বাড়তে থাকে। যদি আপনি ৪৫ বছর বয়সী হন আর বীমা না করে থাকেন, তাহলে আপনি বীমা পণ্যগুলি পচ্ছন্দ করতে পারেন যেটা আপনার পরিবারকে সুবিধা প্রদান করবে এবং আপনার অবসরের সময়কালে আয় প্রদান করবে।
মাসিক নয়, বরং বার্ষিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম প্রদানের প্রস্তাব করুন। তাহলে আপনি ভালো ছাড় পেতে পারেন। অবশ্য আমাদের অধিকাংশের জন্য এর অর্থ হলো পুরো বছরজুড়ে জমা করা। আপনি বীমা কোম্পানির কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন যে, আপনি এভাবে প্রিমিয়াম প্রদান করলে বছরে কত টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন।
দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজেকে বীমা করুন।কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতা বা ঝুঁকির পরিমাণও বাড়তে শুরু করে। এতে করে বীমার খরচও বেড়ে যায়। অর্থাৎ তরুণ বয়সে যত অল্প খরচে বীমা করা যাবে বয়সকালে তা সম্ভব হবে না। তাই অল্প সময়ের জন্য বারবার বীমা করার চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী একটি বীমা করা ভালো। এতে খরচ কম হয়।
সস্তায় জীবন বীমা পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধুমপান বন্ধ করার চেষ্টা করা। ধুমপানকারিরা প্রায়ই অধুমপায়িদের চেয়ে দ্বিগুণ প্রিমিয়াম দিয়ে থাকে। আর এটা দিতে হয় প্রধানত সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে । তাই বীমার প্রিমিয়াম খরচ কমাতে চাইলে আজই ধুমপান বন্ধ করুন। স্বাস্থ্যবান জীবন যাপন করুন।
একটি বৃহৎ বীমাকৃত রাশির জন্য নিজেকে বীমা করুন। সর্বনিম্ন দামে সহজলভ্য বীমা পলিসি নির্বাচিত করুন। যেটি পূর্ণতার ওপর ভালো আয়ের প্রস্তাব দেয়। এজন্য ভালোভাবে বাজার যাচাই করে পলিসি কিনুন। রাইডার্স বা অতিরিক্ত সুবিধা ক্রয় করবেন না। এতে করে আপনার প্রিমিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি কাভার করা থেকে বিরত থাকবেন না।
বীমা পেশা শুরু করতে যাচ্ছেন, জেনে নিন ১০ কৌশল
বীমা পেশা শুরু করতে যাচ্ছেন, জেনে নিন ১০ কৌশল:
৩ মে ২০১৭
বীমা ব্যবসার বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের বীমা কর্মীদের কাজ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের সম্মীলন। একজন বীমা কর্মীকে সম্ভাব্য গ্রাহকের সম্পূর্ণ বা আংশিক নেতিকবাচক মনোভাবকে ইতিবাচক করে তার কাছে পলিসি বিক্রি করতে হয়। কাজেই এক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই বীমা সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে হয়, এ শিল্প সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রাখতে হয়। এরসাথে তার থাকতে হয় কৌশল। যা তাকে এ ব্যবসায়িক কাজে চৌকষ করে তোলে। এক্ষেত্রে বীমা ব্যবসায় নবাগতদের জন্য ১০টি কৌশল ফলপ্রসু বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথম কিস্তিতে থাকছে ৫টি কৌশল।
গ্রাহক সেবার দক্ষতা আরো চৌকষ করুন:
একজন ওয়েটার বা দোকানের বিক্রেতা হিসেবে চাকরিকে যদি আপনি সময় নষ্ট করা মনে করেন তাহলে আপনি পুনরায় চিন্তা করুন। মনে রাখবেন, আপনার রেস্টুরেন্টের একজন অতিথির দ্বারা কিভাবে আপনার কর্ম ক্ষমতা প্রতি মুহুর্তে মূল্যায়ন হচ্ছে। খাদ্য শিল্প ও বীমা শিল্পের গ্রাহকদের সেবা প্রদানের মধ্যে খুব আকর্ষণীয় কিছু সাদৃশ আছে; উভয় ক্ষেত্রেই গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয় যেখানে তারা সর্বোত্তম এবং যত দ্রুত সম্ভব সেবা প্রত্যাশা করে।
অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি রাজ্যে ইন্স্যুরেন্স প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান "আমেরিকা'স প্রফেসর" তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, বীমার মত অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসাগুলির মধ্যে গ্রাহকসেবা প্রায়ই প্রতিযোগীদের একে অপরের থেকে পৃথক করে। ভালো বীমা কর্মীরা বুঝতে পারে যে, যখন পণ্যের মূল্য কম হয় না তখন তাদের দক্ষতা দিয়ে কিভাবে গ্রাহককে তাদের অনুকুলে আনতে হয়।
বিক্রয় কাজে আছেন; এটা কখনই ভুলবেন না:
একজন বিক্রয় পেশাদার হিসেবে আপনার কাজ হচ্ছে গ্রাহকের চাহিদার উপযুক্ত সর্বোত্তম পণ্যটি খুঁজে বের করা এবং ওই পণ্য সম্পর্কে আপনার দৃষ্টির উন্নয়ন করুন। বীমা বিক্রির অর্থ হচ্ছে আজীবনের জন্য গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
আপনি যদি বিক্রয় কাজে নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে মূল কাজ হবে পর্যবেক্ষণ করা: শীর্ষ বিক্রয় কর্মীরা কি করেন সে দিকে খেয়াল করুন, পড়ুন, শুনুন এবং দেখুন। তারা কিভাবে পোশাক পরিধান করেন? তারা কি বলেন এবং কখনই কি বলেন না? তাদের সফলতার ও কষ্টের গল্পগুলো পড়ুন এবং দেখুন সেখান থেকে কিছু শিখতে পারেন কিনা?
দক্ষদের কাছ থেকে শিখুন, তবে নিজের একক বিক্রয় শৈলীর জন্য কোনটি বেশি উপযুক্ত এবং আপনার প্রতিযোগিদের থেকে কোনগুলো আলাদা তা চিন্ত করুন।
সহযোগিতা করার মতো একটি পূর্ণাঙ্গ দল খুঁজে বের করুন:
জগতে আপনি একমাত্র ব্যক্তি নন, যিনি সম্ভাব্য ক্রেতার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তবে অন্যদের সঙ্গে যদি আপনি কথা না বলে থাকেন এবং আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার না করে থাকেন তাহলে হয়তো বিষয়টি আপনি নাও জেনে থাকতে পারেন। তাদের কাছ থেকে আপনি শুনুন এবং শিক্ষা গ্রহণ করুন। আপনি যদি স্বাধীন বীমা প্রতিনিধি হয়ে থাকেন অথবা নতুন যুক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এ ধরণের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা এবং আপনার সহযোগি দলের কাছ থেকে উৎসাহ নিন।
আপনি যদি স্বাধীনভাবে কাজ করেন, তাহলে বীমা প্রতিনিধিদের সংগঠন এবং সহযোগিতা প্রদানকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারেন। যেমন- ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজরস (এনএআইএফএ), ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনাল ইন্স্যুরেন্স এজেন্ট, অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্স্যুরেন্স কমপ্লায়ান্স প্রফেশনালস (এআইসিপি), কমপ্লায়ান্স অ্যান্ড এথিকস ফোরাম ফর লাইফ ইন্স্যুরারস (সিইইএলআই), এলআইএমআরএ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেটেলমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এলআইএসএ), এলওএমএ, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্টে লাইফ ব্রোকারেজ এজেন্সিস (এনএআইএলবিএ), সোসাইটি অব অ্যাকচুয়ারিস (এসওএ) ইত্যাদি।
সফলতার জন্য পোশাক:
"হোয়াট নট টু ওয়ার" এবং "লাভ, লাস্ট, অর রান' এর মতো বিখ্যাত টিভি শো'র খ্যাতনামা তারকা স্ট্যাসি লন্ডন। আমেরিকান এই রীতিশৈলির পেশা হলো মানুষের কাজের উপযোগী পোশাক পছন্দ করতে সহযোগিতা করা, কোন পোশাক তাদের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই এবং কোনটি মানানসই নয়। ওই টিভি শো'গুলোর মাধ্যমে মানুষের প্রথম ইম্প্রেশন বা ধারণা কিভাবে তৈরি হয় সে বিষয়ে মজার মজার সামাজিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
অপরিচিতরা বলতে পারে, "আমি চাই ওই ব্যক্তি আমার বন্ধু হোক।" অথবা "ওহ না, আমি ওই ব্যক্তিকে আমার পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিয়ে যাব না।" এটা শুনতে খুব খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু আমরা একজন ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা তৈরি করি তাকে দেখতে কেমন লাগে তার ওপর ভিত্তি করেই। সুতরাং, পরিষ্কার ও উৎকৃষ্ট রাখুন এবং শিখে নিন কোন স্টাইল বা রীতিশৈলী আপনার জন্য মানানসই। যদি আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তাহলে ডিপার্টমেন্ট স্টোরের দোকানি আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে অথবা আপনার কোন ফ্যাশনপ্রিয় বন্ধু।
সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করুন:
গ্রাহক সম্পর্কের গুরুত্বের বিষয়ে লাইফহেলথপ্রো.কম এর নিয়মিত লেখক মারিবেৎ কুজমেস্কি বলেছেন, "কথোপকথন হচ্ছে সম্পর্কের ভিত্তি। তাদের ছাড়া, আমাদের সম্পর্ক অর্থহীন"। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, কথোপকথন হবে দ্বিমুখী। নিজের সম্পর্কে, নিজের ইচ্ছা এবং অন্যান্য বিষয়ে বলার জন্যও কিছু সময় নিন। যা আপনাকে একজন খাঁটি ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান করতে সাহায্য করবে, যিনি গ্রাহকদের সাহায্য করার জন্য প্রকৃতপক্ষে আগ্রহী।
বীমা ব্যবসার বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের বীমা কর্মীদের কাজ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের সম্মীলন। একজন বীমা কর্মীকে সম্ভাব্য গ্রাহকের সম্পূর্ণ বা আংশিক নেতিকবাচক মনোভাবকে ইতিবাচক করে তার কাছে পলিসি বিক্রি করতে হয়। কাজেই এক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই বীমা সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে হয়, এ শিল্প সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রাখতে হয়। এরসাথে তার থাকতে হয় কৌশল। যা তাকে এ ব্যবসায়িক কাজে চৌকষ করে তোলে। এক্ষেত্রে বীমা ব্যবসায় নবাগতদের জন্য ১০টি কৌশল ফলপ্রসু বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় কিস্তিতে থাকছে নতুন ৫টি কৌশল।
সকল লিখিত যোগাযোগ বারবার পড়ে নির্ভুল করুন:
কি ঘটে যখন আপনি কোন লেখায় ত্রুটি দেখতে পান? হয় আপনি পড়া বন্ধ করেন, না হয় আপনি চিন্তা করেন: "এটার জন্য স্পেল চেকার আছে, বোকা।" তাহলে এটা কেন? কারণ, যা কিছু দুর্বলভাবে লেখা হয় তা অপেশাদার ও অনভিজ্ঞ। এটা খুব শিগগিরই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
আপনি যেখানে গ্রাহকের সঙ্গে আস্থা স্থাপনে কঠোর পরিশ্রম করছেন সেখানে আপনার শেষ চাওয়া হচ্ছে এই আস্থা থেকে কিছু করা। তাই আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে ইমেইল ও খুদে বার্তা পাঠানোর আগে দ্বিতীয় দফা যাচাই করে এর সঠিকতা নিশ্চিত করুন। যদি এটা স্থায়ী দলিল হয় তাহলে বারবার চোখ বুলিয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করুন।
বিক্রয় প্রক্রিয়ায় এবং পরবর্তীতে স্বচ্ছতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
গ্রাহকের আস্থা অর্জনের জন্য স্বচ্ছতা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন গাড়ি বিক্রয়কর্মীর কথাই চিন্তা করুন: যখন আপনি কোন ডিলারশিপে যান তখন কি তাদের সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়তে চান? স্বাভাবিক উত্তর হবে না। বিক্রয়কর্মীরা আজই আপনার কাছে একটি গাড়ি বিক্রয় করতে চায় তা আপনি জানেন। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, বিক্রি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আপনার হাল ছাড়বে না।
লাইফহেলথপ্রো'র আরেক কন্ট্রিবিউটর স্টিভেন ম্যাকার্টে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে আস্থা তৈরি করার উপায় সম্পর্কে লিখেছেন: আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকদের শেখাতে কিভাবে আপনি তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন।
নিজেকে উপস্থাপন করা শিখুন:
অন্যান্য বীমা কর্মী থেকে নিজেকে কিভাবে আলাদ করবেন? গ্রাহক যদি আপনার একই পণ্য অন্য কোথাও সস্তায় এবং আরো দ্রুত পায় তাহলে কেন তারা আপনার কাছ থেকে কিনবে?
হোমস গ্রুপ ও এস্টেট স্ট্র্যাটেজিস'র প্রতিষ্ঠাতা রব হোমস ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড সম্পর্কে বলেছেন: কিভাবে আপনি নিজেকে, আপনার পন্য ও আপনার উপস্থাপনাকে প্যাকেজ করেন। আপনিই আপনার প্যাকেজের উপাদান। আপনি কি বলেছেন, কিভাবে তা বলছেন, কথার শব্দগুলো, শারীরিক ভাষা, সময়নিষ্ঠা, আপনার পোশাক পরিধানের পদ্ধতি এবং আচরণ সকল কিছুই প্রথম ইম্প্রেশন বা ধারণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যেগুলো আপনার ব্র্যান্ড তৈরি করে।
দৃঢ় থাকুন:
"দৃঢ়তা সাফল্যের দিকে পরিচালিত করে," আমার (কাইতা ম্যাকার্ট) বাবা সবসময়ই আমাকে বলতেন, আরেকটি মূল্যবান কথা বলতেন, প্রতিভাই জয়ী হয়। এই দু'টি নীতিবাক্য হাতে হাতে কাজ করে। বিশ্বের সমস্ত প্রতিভা আপনার থাকতে পারে, কিন্তু যদি আপনি দৃঢ় না থাকেন, বাতাসে একটি মোমবাতির মতো নিভে যাবেন।
দৃঢ়তা একটি গুণ যা আপনাকে অবশ্যই উন্নয়তি এবং বীমা শিল্পে জয়লাভের জন্য ক্রমাগত কাজ করবে। ইনভেস্টোপিডিয়া বলছে যে, "সম্ভবত এটি যেকোন ভাল বীমা এজেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ। যারা এই শিল্পে কাজ করেন তারা অবশ্যই তাদের কর্মজীবনে দৈনিক ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন, এবং হাসি মুখেই এটা করেন। ভাল বীমা এজেন্ট বুঝতে পারেন যে প্রতিটি 'না'ই শুধুমাত্র তাদেরকে কারো নিকটবর্তী করতে পারে যারা "হ্যাঁ" বলবে।"
প্রত্যাশা অনুসারে কাজ করুন:
টুইটার'র কো-ফাউন্ডার বিজ স্টোন তার "থিংস এ লিটল বার্ড টোল্ড মি" গ্রন্থে উল্লেখ করেন,"সময়, দৃঢ়তা ও ১০ বছরের প্রকৃত কঠোর পরিশ্রম অবশেষে আপনাকে রাতারাতি সফল করে দেবে।" যারা বলে থাকেন যে কিছু "রাতারাতি সাফল্য" হয়েছে, এখানেই তাদের বাস্তবতা: এখানে এমন কিছু নেই। রোম এক দিনেই নির্মিত হয়নি। মাইকেল জ্যাকসন রাতারাতি বিখ্যাত হননি। স্টিভ জবস তার সফলতার পথে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এসব কিছুই আসে আপনার নিজের এবং আপনার গ্রাহকদের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে। বাস্তবতা হল আপনি যাকে সাফল্য মনে করেন তা অর্জনে খুব কঠোর পরিশ্রম করতে যাচ্ছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসার মালিকদের মার্কেটিং সমাধান প্রদানকারি প্রযুক্তি কোম্পানি 'বিজগ্রিজ'র মালিক ও সাবেক বীমা কর্মী ব্রেন্ট কেলি লিখেছেন যে, সকল বীমা কর্মী "ক্যারিয়ার শুরুর এক বছর বা দু'বছরের মধ্যেই সুন্দর গাড়ি চালাতে চান, সুন্দর বাড়িতে বাস করতে চান এবং বছরে প্রায় ১০০ দিন গল্ফ খেলার ইচ্ছা পোষণ করেন। যাহোক, আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, এই ব্যবসা অন্য যেকোন পেশার চেয়ে অনেক কঠিন এবং এর জন্য অনেক সময় ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন, ব্যর্থতা হচ্ছে এখানকার মাস্টার। সুতরাং গভীর শ্বাস গ্রহন করুন। সময়ই আপনার সফলতাকে আলোয় নিয়ে আসবে।
ব্যাবসায়িক বীমা এবং ব্যাংক গ্যারান্টি
ব্যাবসায়িক বীমা এবং ব্যাংক গ্যারান্টি
প্রশ্ন: আমরা এমন সমস্যায় আছি যে ব্যাংকের সাথে কারবার না করে উপায় নাই। ব্যাপার হলো, আমরা একটি ব্যাংককে ঠিকাদার নিযুক্ত করেছি; যেটির নাম ‘সুন্দর ব্যবস্থাপনা ঠিকাদারি ব্যাংক (অর্থাৎ ব্যাংকটি চুক্তির ধারা অনুযায়ী সুন্দরভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের জামিন হয়।) এখন আমরা সবিস্ময়ে জানছি, তারা যে জামিননামা পেশ করে তার বিনিময়ে মূল্য নেয়। এদিকে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ফিকহের কিতাব রয়েছে যেগুলো থেকে জানা যায়, জিম্মাদারি বা গ্যারান্টি একধরনের স্বেচ্ছাসেবা। এরপর আমরা প্রজেক্টি স্থগিত করেছি বিষয়টি সম্পর্কে শরয়ি প্রমাণাদিসহ বিস্তারিত জানার জন্য। জিজ্ঞাস্য হলো, জামিন বা গ্যারান্টার হওয়ার বিনিময়ে মূল্য নেয়া কি জায়িজ ?
তেমনি ব্যবসায়িক পণ্যের বীমা, জীবন বীমা এবং এ ধরনের চুক্তির ব্যাপারে শরিয়তের বক্তব্য কী আমাদের জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর: প্রথমত. যে আপনাদের কোনো চুক্তি বাস্তবায়নে জামিন হয়েয়ে তার জন্য যে নির্ধারিত এমাউন্টের বেশি লাভের ওপর জামিন হওয়া জায়িজ নেই। কারণ সে মুনাফা নিবে তা সুদী মুনাফা যা হারাম। দ্বিতীয়ত. ব্যাবসায়িক বীমা হারাম। নিম্নের কারণগুলোর ভিত্তিতে।
০১। ব্যবসায়িক বীমা চুক্তি এক ধরনের অনিশ্চিত মুয়ামালা যাতে আছে নির্জলা প্রতারণা। কারণ বীমাকারী চুক্তির সময় জানতে পারে না কত টাকা তাকে দেয়া হবে। তাই দেখা যায় বীমাকারী হয়তো এক বা দুই কিস্তি দিয়েছে মাত্র; অমনি দুর্ঘটনা ঘটে গেল। তখন সে বীমা কোম্পানি কর্তৃক ধার্যকৃত এমাউন্টের মালিক হয়। আবার কারো বেলায় দেখা যায় দুর্ঘটনা ঘটেই না। তখন সে সব কিস্তি পরিশোধ করেও কিছুই পায় না। আর কোম্পানিও নিশ্চিত করে জানতে পারে না প্রত্যেক চুক্তির বেলায় কত পাবে আর কত দিবে। কারণ সহি হাদিসে ধোঁকা-প্রতারণামূলক ব্যবসা বৈধ নয়।[1]
০২। ব্যবসায়িক বীমা এক ধরনের জুয়া। কারণ এতে ‘আর্থিক লেনদেনে শংকা’ রয়েছে, রয়েছে কোনো অপরাধ বা ভূমিকা ছাড়া ক্ষতি পূরণ এবং বিপরীতে কিছু ছাড়া মুনাফা বা বিনিময় ছাড়া প্রতিদান। দেখা যায় বীমাকারী মাত্র এক কিস্তি দিয়েছে ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে দুর্ঘটনা তখন বীমা কোম্পানি এর দায় বহন করে। আবার কারো বেলায় দুর্ঘটনা ঘটেই না। অথচ কোম্পানি তারপরও কোনো বিনিময় ছাড়াই সমুদয় কিস্তি গ্রহণ করে। এসবের সাথে সাথে যখন তাতে অজ্ঞতা যোগ হয় তখন তা হয়ে যায় পুরোমাত্রায় জুয়া। ফলে তখন এটি কুরআনে বর্ণিত ‘মাইসির’ এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ইরশাদ হয়েছে- ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা- বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’[2]
০৩। ব্যবসায়িক বীমায় নাসিয়া ও ফযল উভয় ধরনের সুদ রয়েছে। কারণ কোম্পানি যখন বীমাকারী বা তার উত্তরাধীকারীদের জমা দেয়া টাকার অতিরিক্ত দিবে তখন তা রিবায়ে ফযল বা অতিরিক্ত নেয়ার মাধ্যমে সুদ হবে। এদিকে কোম্পানি যেহেতু চুক্তির পরে শোধ করে তাই তা রিবায়ে নাসিয়া বা বাকি দেয়ার মাধ্যমে সুদ হবে। আর যদি মুনাফা না দিয়ে সমান দেয় তবুও তা হবে রিবায়ে নাসিয়া বলে গণ্য হবে। আর উভয় অবস্থায়ই হারাম।
০৪। ব্যবসায়িক বীমা এক ধরনের বাজি। যার উভয় তরফেই রয়েছে অজ্ঞতা, প্রতারণা এবং জুয়া। আর ইসলামে বাজি সম্পূর্ণ হারাম। কেবল ওইসব ক্ষেত্রে যেখানে ইসলামের কলম বা কথা দ্বারা ইসলামের বিজয় সাধন উদ্দেশ্য হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাজি বৈধতা তিন ক্ষেত্রেই সীমিত রেখেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, .....
০৫। বীমা চুক্তিতে বিনিময় ছাড়া অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করা হয় বলে তা আল্লাহর বাণী ‘হে মুমিনগণ তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু।’[3]- এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত হয়ে হারাম হবে।
০৬। ব্যবসায়িক বীমায় শরিয়ত যেটার ওপর মানুষকে বাধ্য করেনি সেটাতে বাধ্য করা হয়। কারণ কোম্পানি দুর্ঘটনা ঘটায় না; এর পেছনে তার কোনো হাতও থাকে না। কোম্পানি শুধু দুর্ঘটনার ক্ষতি বহনের গ্যারান্টি দিয়ে বীমাকারীর কাছ থেকে নির্ধারিত এমাউন্ট নিয়েছে। কোম্পানি বীমাকারীর জন্য এতটুকু শ্রম দেয়নি। সুতরাং এটা হারাম হবে।[4]
এ কথা আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়েছে যে, জীবন বীমা ও বাণিজ্যিক বীমা নিম্নোক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে অবৈধ-
১. বীমার মধ্যে সুদ রয়েছে। কারণ কোনো কোনো বীমায় লাভ দেয়া হয়। যেমন- জীবন বীমা। এতে কোম্পানি বীমাকারীকে তার সঞ্চিত পরিমাণের চেয়ে বেশি সুদসহ দেয়া হয়। বীমাকারী দেয় কম অথচ পায় তার চেয়ে বেশি।
২. বীমা মানুষকে অবৈধভাবে অন্যের সম্পদ ভোগে বাধ্য করে।
৩. বীমায় জুয়া রয়েছে। কারণ এটি ঝুঁকির ওপর কৃত চুক্তি- যা কখনো ঘটে; কখনো ঘটে না। সুতরাং এটি একধরনের জুয়া।
৪. বীমায় ধোঁকা-প্রতারণা ও অজ্ঞতা রয়েছে।
৫. বীমা চুক্তিকারীদ্বয়ের মাঝে অবিশ্বাস ও শত্রুতা সৃষ্টি করে। কারণ যখন দুর্ঘটনা ঘটবে তখন উভয়পক্ষ চাইবে ক্ষতির দায়দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপাবে। এতে করে ঝগড়া-বিবাদ এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে।
৬. বীমা এমন কোনো ব্যবস্থা নয় যা ছাড়া চলবে না। কারণ বীমার এ কাজের জন্য ইসলাম বিভিন্ন উপলক্ষে দান-সদকার নিয়ম প্রবর্তন করেছে। এবং গরিব-মিসকিন ও ঋণগ্রস্থদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে জাকাত ওয়াজিব করেছে। এ ছাড়াও ইসলামি রাষ্ট্র তার সকল প্রজার দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করে।[5]
[1]. মুসলিম : ১৫১৩
[2]. মায়িদা : ৯০
[3].
[4]. সৌদি শীর্ষ আলেমদের ফতোয়া সংকলন : ফতোয়া : ৩২৪৯
[5]. ড. উমর বিন আব্দুল আজিজ, ইসলামি দৃষ্টিকোণে সুদ এবং অর্থনৈতিক লেনদেন। পৃষ্ঠা : ৪২৫
https://www.hadithbd.com/books/link/?id=8218
ইসলামের দৃষ্টিতে জীবন বীমা
ইসলামের দৃষ্টিতে জীবন বীমা
৫ মার্চ ২০১৭
কল্যাণ চক্রবর্তী: জীবন বীমা দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অর্থগুলোকে পুঞ্জিভূত করে সামাজিকভাবে মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে থাকে। যে প্রতিষ্ঠানটি দেশের মানুষের জন্য এ ধরনের একটি সেবার নিশ্চয়তা দেয়, সেখানে কতিপয় মুসলমান ব্যক্তি জীবন বীমাকে ইসলাম বিরোধী বা নাজায়েজ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। তারা এর পিছনে যে ধরনের যুক্তি উপস্থাপন করেন তা মূলত ইসলাম ও জীবন বীমা সম্পর্কে না জেনে এরকম একটি মনগড়া গোড়ামী যুক্তির অবতারণা করে থাকেন মাত্র। আমার বক্তব্য ঐ সকল ব্যক্তির এহেন তথাকথিত যুক্তিকেই ইসলাম বিরোধী বলাই শ্রেয়। যা হোক জীবন বীমা যে ইসলাম বিরোধী নয় এবং তা যে ইসলামেরই সৃষ্টি তা নিম্নলিখিত আলোচনার মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করা হলো।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) তার অনুসারীদেরকে বারংবার দুঃসময়ের জন্য সঞ্চয়ের সুপরামর্শ ও নির্দেশ দিতেন। ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার ‘বায়তুলমালের’ প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই যা তদানিন্তন ইসলামী সমাজে একটি দুঃসময়ের সঞ্চয় হিসাবে খুবই খ্যাতি অর্জন করেছিল।
বায়তুলমালের প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগ:
১) তদানিন্তন আরব বণিকরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড় পর্বত বেষ্টিত পথে ব্যবসা বাণিজ্য করতে যেতো। কেননা ব্যবসা বাণিজ্য ছিল তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে সমস্ত দুর্গম পথ পাড়ি দিত। ফলে দুর্ঘটনায় অনেক বণিক মারা যেতো। এদের অনেকেই থাকতো পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। ফলে তাদের মৃত্যুতে ঐ পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে যেতো। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আরব বণিক ও সমাজের বৃত্তশালী ব্যক্তিরা একটি তহবিল অর্থাৎ ‘বায়তুলমালের’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল বৃদ্ধির জন্য তারা তাদের আয়ের একটি অংশ ঐ তহবিলে জমা রাখতো। যদি তাদের কেউ মারা যেতো তখন মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ঐ ‘বায়তুলমাল’ থেকে সাহায্য করা হতো। আজকের জীবন বীমা তারই একটি আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থা। অথচ মুসলমানরা জীবন বীমাকে ইসলাম বিরোধী বলে আখ্যায়িত করছেন।
২) আরবদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র বাহন ছিল উট। দুর্গম পথ পাড়ি দিতে অনেক উটও মারা যেতো। আর কোন বণিকের উট না থাকলে তার পক্ষে ব্যবসা করা সম্ভব ছিল না। তখন সাহাবীরা মহানবী (সা.) এর কাছে যেয়ে এ অবস্থার জন্য পানাহ চাইলেন। মহানবী (সা.) তাদেরকে উপদেশ দিলেন তোমাদের যাদের উট আছে তারা সবাই মিলে একটি সংঘ গঠন কর এবং সেখানে প্রতিমাসে কিছু অর্থ সঞ্চয় কর। এরপর যাদের উট মারা যাবে-তাদেরকে ঐ সংঘ থেকে অর্থ নিয়ে উট কিনে দেওয়া যাবে। সাহাবীরা মহানবী (দঃ) এর নির্দেশ মত ‘উট মালিক সংঘ’ (Camel Owner Association) গঠন করেন। এরপর কারো উট মারা গেলে উক্ত সংঘ থেকে অর্থ নিয়ে তাকে উট কিনে দেয়া হতো।
জীবন বীমা যদিও একজন মানুষের অভাব পূরণ করে দিতে পারে না তবুও তার পরিবারকে বেঁচে থাকার অর্থ সংস্থান করে দিতে পারে। এটা যে কত বড় উপকার তা শুধু ভুক্তভোগিরাই জানে। পৃথিবীতে এমন কোন ব্যবস্থা আছে যা কোন মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য এককালীন অর্থনৈতিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসে? এ মহত্ব তো ইসলামেরই শিক্ষা। তবু জীবন বীমাকে কেন ইসলাম বিরোধী বলে অভিহিত করা হয়? তা শুধুমাত্র ইসলাম ও জীবন বীমা বিষয়ে অজ্ঞতার পরিচয় নয় কি?
৩) কিছু মুসলমানকে বলতে শুনা যায় যে আল্লাহ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, আল্লাহ মানুষের মৃত্যুর পর তার পরিবারকে হেফাজত করবেন। মুসলমান হিসাবে আল্লাহকে বিশ্বাস করা ঈমানের একটি বড় অঙ্গ। কিন্তু আল্লাহ কোন মুসলমানকে তার পরিবারবর্গের হেফাজতের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নিষেধ করেননি।
রসুলে করিম (স.) এর বক্তবে এ কথার জবাব রয়েছে- আল্লাহর উপর ভরসা তোমাদের অবশ্যই রাখতে হবে, কেননা আসল দাতা তো তিনি। কিন্তু সে ভরসা হতে হবে পক্ষীকুলের মত। পক্ষীকুল পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে কিন্তু তারা বাসায় বসে থাকে না। বরং খাদ্যের সন্ধানে তারা প্রত্যহ ভোরে নীড় ছেড়ে বের হয়ে পড়ে। খাদ্য সংগ্রহ করে নিজে খেয়ে বাচ্চার জন্য পযাপ্ত খাদ্য নিয়ে ফিরে আসে আপন ঠিকানায়।
তেমনি তোমাদের ও আল্লাহর উপর ভরসা করে নিস্ক্রিয় হয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না, তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসার সঠিক অর্থ তা নয় বরং ভরসা সহকারে রুজি রোজরাগে সন্ধানে বের হতে হবে। সেজন্য তোমাদের মন, মগজ ও দেহের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে; বাস্তব কোন পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
বিখ্যাত সাহাবী হযরত আমর ইবনে উমাইয়া জমরী (রা.) রসুল (সঃ) কে জিঞ্জাসা করলেন: হে রসুল (স.) আমি যে উটটিতে সওয়ার হয়ে আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি সে উট ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করবো, না উটটি বেধে রাখবো? নবী করিম (সা.) উত্তর দিলেন, আগে উটটিকে রশি দিয়ে বাঁধ এবং সেই সাথে আল্লাহর উপর ভরসা কর। আমরা আল্লাহ উপর বিশ্বাস করি। কিন্তু তাই বলে ঘরের দরজা খোলা রেখে রাত্রে ঘুমাতে আল্লাহ বলেননি, কিংবা সম্পদ অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখার উপদেশ আল্লাহ দেননি। এ জন্য ঘরের দরজা বন্ধ ও গুদামের তালা চাবির ব্যবস্থা করার জন্য আল্লাহ আমাদের বুদ্ধি দিয়েছেন। তাই জীবন বীমা তো মানুষের উপকারে জন্য বুদ্ধিদীপ্ত একটি পন্থা।
৪) সৌদী আরব থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘আরব নিউজ’ এর (১২ই মার্চ ১৯৯০সাল) “ইসলাম ইন পারসপেকটিভ” এর সম্পাদক বিশিষ্ট ইসলাম বিশেষজ্ঞ জনাব আদীল সালাহী জীবন বীমাকে ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ বলে স্বীকৃতি প্রদান করেন। জীবন বীমা সম্পর্কে সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ সালে একজন পাঠকের উত্তরে তিনি এই বক্তব্য প্রকাশ করেন। জীবন বীমা সম্পর্কে আর একজন পাঠকের উত্তরে ১০ আগস্ট ১৯৯০ সনে, জনাব আদিল সালাহী পুনরায় জীবন বীমাকে জায়েজ বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।
৫) ইসলাম গবেষণা ভিত্তিক ধর্ম, এজতেহাদের মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান ইসলাম দিয়েছে। এ এজতেহাদের মাধ্যমে বীমা ও ইসলাম সম্মত হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ইসলাম সঞ্চয় করতে, খাওয়া পরায় হিসাবী ও মিতব্যয়ী হওয়া জন্য উপদেশ দিয়েছে। আল্লাহর সৃষ্ট জীব পিঁপড়ারও জীবনে সঞ্চয়ের অভ্যাস লক্ষ্য করা যায়। ফলে মানুষের জন্য জীবন বীমা, সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তোলার একটি চমৎকার পন্থা। জনৈক ইসলাম বিশেষজ্ঞ কোরআন ও হাদীসের বাণী বিশ্লেষণ করে মন্তব্য করেন যে সঞ্চয় হল পরিজনের জন্য ব্যয়, উত্তরাকারীর জন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, আপৎকালের জন্য সংস্থানের ব্যবস্থা এবং এব্যবস্থায় “জীবন বীমা হচ্ছে ইসলামের নির্দেশ ও উপদেশ সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ”।
৬) কাজেই জীবন বীমা ইসলাম বিরোধী নয় বরং তা পৃথিবীর এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের মধ্যে যারা এতিম, বিধবা, বৃদ্ধ এবং জ্বরাগ্রস্থ তাদেরকে অর্থনৈতিক পরিচর্যা করার একটি মহৎ প্রতিষ্ঠান। এ মহৎ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার জন্য মুসলিম ও অমুসলিম বিশ্বে বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানী জীবন বীমা ব্যবসা করছে। যার একটি তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো:
১। ইসলামিক বীমা কোম্পানী (সুদান), ১৯৭৯
২। ইসলামিক আরব বীমা কো. (সৌদি আরব), ১৯৭৯
৩। ইসলামিক আরব বীমা কো. (ইউএই), ১৯৮০
৪। দার আল মল আল আসলামী (জেনেভা), ১৯৮১
৫। ইসলামী তাকাফুল এবং রি তাকাফুল (বাহামা), ১৯৮৩
৬। ইসলামী তাকাফুল কোম্পানী (লুক্সেমবার্গ), ১৯৮৩
৭। আল বারাকা বীমা কোম্পানী (সুদান), ১৯৮৪
৮। ইসলামী বীমা এবং পুনর্বীমা কোম্পানী (বাহরাইন), ১৯৮৫
৯। শরিফাত তাকাফুল (মালয়েশিয়া), ১৯৮৫
লেখক: সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সে কোম্পানি লিমিটেড’র এডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর অ্যান্ড সিএফও।
প্রকাশের তারিখ- ২২ জানুয়ারি, ২০১৭
https://insurancenewsbd.com/article/training/73
Profit First
Profit First বইটা আমি অনেক আগেই পড়েছি। নামটা প্রথমে একটু অদ্ভুতই লাগছিল—প্রফিট আবার প্রথমে হয় নাকি! কিন্তু বইটা পড়ার পর আমার মনে হয়েছে—এটা এ...
-
লাইফ ইনস্যুরেন্স বা জীবন বীমা করা কি জায়েয............??? ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৫ এই বিষয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করার পর এই লেখাটি লিখলাম।সব...
-
বীমা পেশা শুরু করতে যাচ্ছেন, জেনে নিন ১০ কৌশল: ৩ মে ২০১৭ বীমা ব্যবসার বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের বীমা কর্মীদের কাজ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের...
-
Profit First বইটা আমি অনেক আগেই পড়েছি। নামটা প্রথমে একটু অদ্ভুতই লাগছিল—প্রফিট আবার প্রথমে হয় নাকি! কিন্তু বইটা পড়ার পর আমার মনে হয়েছে—এটা এ...