Saturday, April 12, 2025

Profit First

Profit First বইটা আমি অনেক আগেই পড়েছি। নামটা প্রথমে একটু অদ্ভুতই লাগছিল—প্রফিট আবার প্রথমে হয় নাকি!

কিন্তু বইটা পড়ার পর আমার মনে হয়েছে—এটা একেবারে একটা গোল্ড মাইন।
আমি মনে করি, আমরা যারা বুটস্ট্র্যাপড মডেলে ছোট বা মাঝারি আকারের ব্যবসা চালাই, তাদের জন্য এই বইটা পড়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এই পোস্টের সারাংশ যদি আপনার ভালো লাগে, তাহলে অনুগ্রহ করে অন্যদের সাথেও শেয়ার করে দিন। কারণ একেকজনের জীবনে একটা সিস্টেমই সব বদলে দিতে পারে।
অনেক ধন্যবাদ।


💸 টাকা আয় করি, কিন্তু মাস শেষে কিছুই থাকে না—এই সমস্যার সমাধান কি?
--------------------------------------------------------------------
📘টি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যবসায়িক বই “Profit First: Transform Your Business from a Cash-Eating Monster to a Money-Making Machine” এর সারসংক্ষেপ,
✍️ লেখক: Mike Michalowicz
একটি পদ্ধতি যা ছোট থেকে মাঝারি ব্যবসা, এমনকি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও এনে দিতে পারে স্থিতিশীলতা, লাভ আর মানসিক প্রশান্তি।
--------------------------------------------------------------------
টাকা উপার্জন করা কঠিন। কিন্তু যাঁরা টাকা উপার্জন করেন, তাঁরাই বলেন—টাকা ধরে রাখা আরও কঠিন।
অনেকেই জীবনের পুরোটা সময় পরিশ্রম করেও টাকা এক জায়গায় জমাতে পারেন না। টাকা আসে, টাকা চলে যায়।
আসলে টাকা ম্যানেজ করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। টাকা যেন এক জীবন্ত প্রাণীর মতো আচরণ করে। আর এই পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই এই টাকার পিছনে দিনরাত খেটে চলেছে।
--------------------------------------------------------------------
❓ তাহলে প্রশ্ন হলো: টাকাকে কীভাবে সহজে ম্যানেজ করা যায়?
--------------------------------------------------------------------
প্রচলিত অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম দিয়ে কেন এটাকে সহজে ম্যানেজ করা যায় না? প্রচলিত অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (GAAP) বলে, তুমি ইনকাম করো, এরপর খরচ করো, সব খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে, সেটাই তোমার প্রফিট।
GAAP বলে:
👉 আয় - খরচ = লাভ (Profit)
অর্থাৎ, আয় করো, তারপর খরচ করো—শেষে যা বাঁচে তাই লাভ। এই পদ্ধতিতে লাভ কখনো নিশ্চিত হয় না।
🎯 কিন্তু Mike Michalowicz তার বই “Profit First”–এ বলছেন, বিষয়টা হওয়া উচিত ঠিক উল্টোভাবে:
👉 আয় - লাভ = খরচ (Expenses)
অনেকেই বলবে—এটা তো শুধু অংকের অবস্থান বদল। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট পরিবর্তনই ব্যবসায়ের লাভ ও টিকে থাকার জন্য গভীর পরিবর্তন নিয়ে আসে।
প্রচলিত Accounting Method এ এমনও হতে পারে, আপনি প্রফিট করেছেন, কিন্তু দিন শেষে আপনার ব্যাংকে কোনো টাকা থাকবে না।
📌 কারণ প্রচলিত অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (GAAP) পদ্ধতি মানুষের আচরণগত দৃষ্টিকোণ থেকে বানানো হয়নি।
📘 Profit First (PF) মেথড আপনার সাইকোলজির উপর ভিত্তি করে করা। মানুষ হিসেবে আমরা কিছু বেসিক ট্রেইট নিয়ে বেড়ে উঠি। এই ট্রেইটগুলোকে আমূল বদলে ফেলা এত সহজ না। তাই Mike এমন একটা সিস্টেম ডিজাইন করেছেন যাতে আপনাকে নিজেকে বদলাতে হবে না, শুধু আপনার অ্যাকশনগুলোকে চেঞ্জ করে দেবে যাতে আপনি ট্র্যাকে থাকেন।
এই পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো প্রায়োরিটি সেট করা।
প্রচলিত চিন্তাধারায় আমরা ভাবি—
➤ আয় করবো → খরচ করবো → শেষে যদি কিছু থাকে তবে সেটা লাভ।
এখানে খরচকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফলে মানুষ ইনকাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচ বাড়ায়। আর কখনো যদি ব্যবসার আয় কমে যায়, আগে থেকেই তৈরি করা খরচের খাত হঠাৎ করে কমিয়ে আনা যায় না—বরং লাভ হারিয়ে যায়, এমনকি ব্যবসা লোকসানে পড়ে যায়।
📉 এ কারণেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫৮ মিলিয়ন এসএমই (SMEs) এর মাঝে,
👉 প্রতি ৫টির মধ্যে ১টি ব্যবসা প্রথম বছরেই ব্যর্থ হয়,
👉 আর ৫ বছরের মধ্যে ৫০% ব্যবসা টিকে থাকতে পারে না।
💡 এখন যদি উল্টো চিন্তা করি:
Profit First পদ্ধতিতে আমরা আগে থেকেই ইনকামের একটা অংশ বরাদ্দ করে ফেলি: এক ভাগ যায় নিজের বেতন (Owner’s Compensation) হিসেবে, এক ভাগ যায় Profit Account এ,
এক ভাগ Tax Account এ। এরপর যা বাকি থাকে, সেটুকু দিয়ে আমরা ব্যবসার খরচ চালাই।
আর সেই Profit ও Tax একাউন্ট এমন জায়গায় রাখি যেখানে সহজে হাত দিতে না পারি। এতে করে খরচ একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। আয় বাড়লেও খরচ হুট করে অনেক বেড়ে যায় না।
✅ এতে করে একটা বড় কর্পোরেট অফিস নেওয়ার চিন্তা মাথায় আসার আগেই আমাদের নিজস্ব সিস্টেম সেটা থামিয়ে দেয়।
✅ আয় কমলেও ব্যবসা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে না।
📌 সংক্ষেপে বললে, Profit First পদ্ধতিতে প্রথমেই আপনি নিজেকে ও ব্যবসার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করেন—তারপরই আসে খরচ।
এই পোস্টে আমি আলোচনা করবো:
👉 Profit First পদ্ধতি কেন এত কার্যকর?
👉 আমরা কীভাবে এই সিস্টেম ব্যবহার করে ব্যবসা আরও মজবুত করে তুলতে পারি?
তাহলে শুরু করা যাক—Profit First এর যাত্রা।
--------------------------------------------------------------------
🔑 Profit First-এর চারটি স্তম্ভ: যেগুলো আপনার হিসাব নয়, আপনার আচরণ বদলাবে
--------------------------------------------------------------------
✅ ১. Use Small Plates
মূল কথা: "যত বড় প্লেট, তত বেশি খাবার খাওয়া হয়।"
এটা Parkinson’s Law এর অ্যাপ্লিকেশন:
“Work expands to fill the time available for its completion.”
একইভাবে—
“Expenses expand to consume all available funds.”
🔍 উদাহরণ:
ধরুন, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা আছে। আপনি একটা নতুন ল্যাপটপ কিনতে চান। তখন আপনার মন বলবে—"বাজেট ১.৫ লাখ রাখলেও হবে, টাকা তো আছে।"
কিন্তু যদি খরচের অ্যাকাউন্টে শুধু ১ লাখ টাকা থাকতো, তখন আপনি ৭০-৮০ হাজার টাকায় ল্যাপটপ দেখে কিনতেন।
👉 তাই Profit First পদ্ধতিতে একটাই ইনকাম অ্যাকাউন্ট না রেখে টাকা ভাগ করে রাখা হয়—যাতে প্রতিটি অ্যাকাউন্ট ছোট দেখায় এবং খরচ নিয়ন্ত্রিত থাকে।
✅ ২. Serve Sequentially
মূল কথা: "টাকা ভাগ করার একটা ধারাবাহিকতা মেনে চলুন।"
এই নীতি Primacy Effect এর ওপর ভিত্তি করে।
যা প্রথমে ঘটে, সেটা আমাদের মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
🔍 উদাহরণ:
ধরুন আপনি ১ লাখ টাকা ইনকাম করেছেন। GAAP অনুযায়ী আপনি প্রথমে খরচ করেন, তারপর দেখেন কিছু থাকলে সেটা লাভ। ফলাফল? প্রায়ই কিছু থাকে না।
Profit First বলছে:
১. প্রথমেই প্রফিট বের করুন
২. তারপর ট্যাক্স
৩. এরপর নিজের বেতন
৪. সবশেষে খরচ চালান
👉 এইভাবে টাকা ভাগ করলে প্রথমেই লাভ গুরুত্ব পায় এবং সেটাই habit হয়ে যায়।
✅ ৩. Remove Temptation
মূল কথা: "যা সহজলভ্য, সেটার প্রলোভন বেশি।"
Profit First প্রফিট এবং ট্যাক্সের টাকা এমন অ্যাকাউন্টে রাখতে বলে যেখান থেকে সহজে টাকা তোলা না যায়।
🔍 উদাহরণ:
ধরুন, আপনি ফিক্সড ডিপোজিটে টাকা রাখলে সেটা সহজে ভাঙেন না, কারণ সেখান থেকে তোলা ঝামেলার। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং-এর টাকায় আপনি impulse খরচ করে ফেলেন।
Profit First বলে—
প্রফিট ও ট্যাক্সের টাকা এমন ব্যাংকে রাখুন যেটার সাথে মোবাইল অ্যাপ নেই, অনলাইন ট্রান্সফার কঠিন।
এই “inconvenience” ই আপনাকে টাকা খরচের হাত থেকে বাঁচাবে।
✅ ৪. Enforce a Rhythm
মূল কথা: "নিয়মিত ছন্দ তৈরি করলে শৃঙ্খলা আসে।"
আমাদের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট সময়সূচিতে অভ্যস্ত হলে মানসিক চাপ কমে এবং বাজে সিদ্ধান্ত কম নেয়।
🔍 উদাহরণ:
Profit First বলে, মাসে দুইবার—১০ এবং ২৫ তারিখে টাকা allocate করুন।
এতে করে আপনি জানেন, এই দুই দিনে আপনি সব allocation করবেন।
"Daily decision fatigue" কমে যাবে।
👉 আপনি খরচের decision নেবেন না যখন তখন, বরং এই ২ দিনে হিসেব করে করবেন। এইভাবে আপনার ব্যবসা predictable cash flow-এর মধ্যে চলে আসে।
--------------------------------------------------------------------
💼 Profit First-এর ৫টি প্রধান অ্যাকাউন্ট:
--------------------------------------------------------------------
INCOME – সব ইনকাম এখানে আসে
PROFIT – প্রথমেই লাভ আলাদা করে রাখুন
OWNER’S COMP – নিজের বেতন
TAX – কর বাবদ
OPEX – অপারেটিং খরচ
🔐 No-Temptation Accounts (২টি):
PROFIT এবং TAX এর টাকা রাখবেন এমন ব্যাংকে, যেখান থেকে সহজে টাকা তোলা সম্ভব না।
--------------------------------------------------------------------
💼 Profit First অ্যাকাউন্ট অ্যালোকেশন (বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে)
--------------------------------------------------------------------
এই পোস্টের সঙ্গে অ্যাড করা ছবিটি দেখুন। ছবিতে আপনি দেখতে পাবেন, “Real Revenue Range” নামের একটি টার্ম রয়েছে। প্রথমে বুঝি, Real Revenue বের করা হয় কীভাবে:
Real Revenue বের করার মূল নীতি হচ্ছে:
👉 মোট ইনকাম (Total Revenue) থেকে এমন সব খরচ বাদ দেওয়া যেগুলো ব্যবসার মধ্য দিয়ে শুধু “পাস হয়ে যায়” কিন্তু আসলে আপনার নিয়ন্ত্রণে বা আপনার জন্য নয়।
অর্থাৎ, 📌 Real Revenue = Total Revenue – Pass-Through Expenses
✅ উদাহরণ দিয়ে বুঝি আমরা
ধরুন, আপনি একজন ইভেন্ট ম্যানেজার। আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে ১০ লাখ টাকা দিলো একটা প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য।
এই ১০ লাখ টাকার মধ্যে আপনি—
৬ লাখ টাকা ভেন্যু ভাড়া দিলেন
২ লাখ টাকা ক্যাটারিং কোম্পানিকে দিলেন
এই ৮ লাখ টাকা আপনি নিজের জন্য রাখেননি। এগুলো আপনি শুধু “পাস করে” দিয়েছেন।
✅ তাহলে আপনার Real Revenue =
১০ লাখ – ৮ লাখ = ২ লাখ টাকা
এই ২ লাখ টাকা দিয়েই আপনি—
আপনার প্রফিট রাখবেন
ট্যাক্স আলাদা করবেন
নিজের বেতন নেবেন
এবং অপারেটিং খরচ চালাবেন
💡 কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ অনেক সময় ব্যবসায়ীরা দেখে বড় বড় ইনকাম আসছে—তারা ভাবে, "ব্যবসা ভালো চলছে!"
কিন্তু শেষে দেখা যায় সব পাস হয়ে গেছে, নিজের হাতে কিছুই থাকেনি।
✅ তাই Real Revenue বের না করলে আপনি ভুলভাবে নিজের ব্যবসার স্বাস্থ্য বিচার করবেন।
এখন আমরা ছবির মতো করে আমাদের Real Revenue-এর বিভিন্ন রেঞ্জ অনুযায়ী আমাদের আয়কে অন্য চারটি অ্যাকাউন্টে ভাগ করে নেব।
একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝি:
ধরে নেওয়া যাক, আপনার ব্যবসা বছরে আয় করে মোট ২০ লাখ টাকা। Profit First পদ্ধতি অনুযায়ী প্রথমে আপনাকে Real Revenue Range অনুযায়ী দেখতে হবে আপনি কোন ক্যাটাগরিতে পড়েন। ২০ লাখ টাকা প্রায় ১৭,০০০ মার্কিন ডলার, যা দ্বিতীয় রেঞ্জে পড়ে।
এই রেঞ্জ অনুযায়ী আপনার ইনকামকে ভাগ করা হবে এইভাবে:
✅ Profit (লাভ): ১০% → ২০ লাখ টাকার ১০% = ২ লাখ টাকা
✅ Owner’s Compensation (নিজের বেতন): ৩৫% → ৭ লাখ টাকা
✅ Tax (কর): ১৫% → ৩ লাখ টাকা
✅ Operating Expenses (চালান খরচ): ৪০% → ৮ লাখ টাকা
📌 অর্থাৎ, প্রতি ইনকাম থেকে আপনি এই চারটি ছোট ছোট অ্যাকাউন্টে টাকা আলাদা করে রাখবেন। এতে করে প্রতিটা খরচ এবং প্রফিটের ওপর আপনার পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে, আর মাসের শেষে চিন্তার জায়গা কমে যাবে।
এইভাবেই ধাপে ধাপে আপনি Profit First পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবেন।
--------------------------------------------------------------------
✅ তাহলে আপনি এখন কীভাবে শুরু করবেন?
--------------------------------------------------------------------
প্রথমে আপনার বর্তমান ভাগ Current Allocation Percentages (CAP) কী সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর ধীরে ধীরে Target Allocation Percentages (TAP)-এর দিকে এগিয়ে যান।
আপনার ব্যবসার আয় ও আকার অনুযায়ী সেটাই হবে সঠিক স্টেপ।
🎯 শেষ কথা:
Profit First কোনো ম্যাজিকাল সিস্টেম না—এটা একটা “সচেতনতা”।
আপনার টাকা কোথায় যাবে সেটা আগে ঠিক করুন, যেন মাসের শেষে “তাকিয়ে থাকা” নয়, “তাকায় রাখা” বাস্তব হয়।
🙏 এই পোস্ট যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে নিজের ওয়ালে রেখে দিন—কারণ প্রতিটি ব্যবসায়ীর এই বিষয়গুলো জানা উচিত। আপনি শেয়ার করলে হয়তো কারও ব্যবসার দিকটাই বদলে যেতে পারে।✅


Profit First

Profit First বইটা আমি অনেক আগেই পড়েছি। নামটা প্রথমে একটু অদ্ভুতই লাগছিল—প্রফিট আবার প্রথমে হয় নাকি! কিন্তু বইটা পড়ার পর আমার মনে হয়েছে—এটা এ...